অপরাধ ও দুর্ণীতিজাতীয়

দুই ইউএনও বদলীর নেপথ্যে পিআইও সালাউদ্দিনের প্রভাব!

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

গৌরনদী উপজেলায় সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও হুমকি-ধমকির অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সালাউদ্দিন ফের আলোচনায়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইজন সৎ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলির নেপথ্যে তারই হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইউএনওকে প্রকাশ্যে হুমকি

নির্বাহী অ‌ফিস সু‌ত্রে জানা গে‌ছে, সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও রিফাত আরা মৌরী মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের খোঁজ নিতে চাইলে সালাউদ্দিন প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন—
“বেশি বাড়াবাড়ি করলে আপনিও গৌরনদীতে থাকতে পারবেন না। আমি থাকব, না হলে আপনি থাকবেন।”

এর আগে সাবেক ইউএনও আবু আব্দুল্লাহ খান দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাকেও বদলি করা হয়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে—রবিবার যোগদান করতে যাওয়া নতুন ইউএনও-ও কি একই পরিণতির শিকার হবেন, নাকি দুর্নীতিবাজ চক্রের সঙ্গে সমঝোতায় যাবেন?

জানা গে‌ছে মুক্তিযোদ্ধা ঘর প্রকল্পে অনিয়ম

৯৮টি ঘরের জন্য অনুমোদিত হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কাজের বণ্টন করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে।

কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—
মেসার্স এম এন্টারপ্রাইজ, নেয়ামুল এন্টারপ্রাইজ, আছিয়া এন্টারপ্রাইজ, এন ডি এন্টারপ্রাইজ, বনলতা, জায়ান বিল্ডার্স, মির্জা ট্রেডিং, তালুকদার, ইসলাম এন্টারপ্রাইজ এবং উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক রুবেল গোমস্তাসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৩% কমিশনে কাজ নিয়ে তা পরে ১২% দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে কাজ শুরুর আগেই উন্নয়নের টাকা ভাগ হয়ে যাচ্ছে।

কমিশন সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ

অভিযোগ রয়েছে, সালাউদ্দিনের প্রকল্পগুলো কার্যত নিয়ন্ত্রণ করেন দুর্নীতির দায়ে দৈনিক প্রথম আলো থেকে চাকরিচ্যুত সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জহির।
একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন— “যেখানে কাজ শুরু হওয়ার আগেই কমিশন ভাগ হয়ে যায়, সেখানে ঘরের মান কেমন হবে তা বোঝাই যাচ্ছে।”

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ— “সংগ্রামের সময়ে আমরা পাশে ছিলাম, অথচ এখন কাজের ভাগ উপজেলা নেতাদের দখলে। আমাদের কিছুই দেওয়া হয় না।”

ইউএনওর সঙ্গে দ্বন্দ্ব

২০২৫ অর্থবছরের কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের তথ্য ইউএনও রিফাত আরা মৌরী অফিসিয়াল পেজে প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষ আবেদন করার সুযোগ পান। এতে সালাউদ্দিন ক্ষুব্ধ হন। কারণ, আগে তিনি গোপনে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে কাজ বণ্টন করতেন।

সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির কারখানা

স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী—

প্রতিটি প্রকল্পে সালাউদ্দিন কমিশন ঠিক করে দেন।

অনেক কাজ কাগজে-কলমে শেষ দেখালেও বাস্তবে হয়নি।

কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পাচ্ছে না।

ঢাকায় প্রশিক্ষণের নামে গিয়ে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসা সামলান।

সালাউদ্দিনের প্রতিক্রিয়া

সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি একগাল হেসে উড়িয়ে দেন।

এলাকাবাসীর দাবি

গৌরনদীবাসীর প্রশ্ন—“যদি সৎ ইউএনওরাও কাজ করতে না পারেন, তবে কি দুর্নীতিবাজরাই টিকে থাকবে?”
তাদের একমাত্র

Back to top button