অপরাধ ও দুর্ণীতি

ঢাকার উচুতলায় কল গার্ল’ নামে পরিচিত—জড়িত

পর্ণ তারকা দম্প‌তি গ্রেফতারের ঘটনা শুনে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই—রাজধানী ঢাকায় বহুদিন ধরেই আড়ালে এমন একটি উপ–সংস্কৃতি সক্রিয়। পাঁচতারকা হোটেল, গুলশান–বনানী–উত্তরা এলাকার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কে বিভিন্ন বয়সী নারী—যাদের কেউ মডেলিং, মিডিয়া বা তথাকথিত ‘কল গার্ল’ নামে পরিচিত—জড়িত বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এখানে উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরাও যুক্ত থাকে।

বাংলাদেশে অনলাইনে সক্রিয় বহু ডেটিং প্ল্যাটফর্ম ও জুয়ার সাইটে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ–তরুণীর সম্পৃক্ততা রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। যেসব পিতা–মাতা সন্তানদের হাতে বিপুল অর্থ তুলে দেন, তাঁরা চাইলে খুব সহজেই খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন—এই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সন্তানরা কোন সম্পর্কের ফাঁদে বা ঝুঁকিতে জড়াচ্ছে, এবং কীভাবে ব্যবহৃত বা প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা এলাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, শীশা বার ও নির্দিষ্ট ‘স্মোকিং জোনে’ অল্পবয়সী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়–পড়ুয়া তরুণ–তরুণীদের নৈতিক স্খলনের বাস্তব ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।

দুই দিন পর পর ফোনের মডেল বদলানো, স্বল্প সময় পর পর দামি বাইক বা গাড়ি কেনা, বছরে একাধিক বিদেশ ভ্রমণ, পাঁচতারকা হোটেলে জন্মদিন উদযাপন, মাসে লক্ষাধিক হাতখরচ—এসব বিলাসিতার অর্থ সরবরাহের আগে অভিভাবকদের তিনবার ভাবা উচিত। কারণ অসংযত বিলাসিতার নামে সন্তানদের অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়াই কখনো কখনো তাদের বিপথে নিয়ে যায়—এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা আসে পরিবারের দিকেই ফিরে।

Back to top button