এক্সক্লুসিভক্যাম্পাস

মায়ের অপমানের প্রতিশোধ হয়‌তো বি‌দেশে পড়া‌লেখা

২০২৩ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর। সেদিন ছিল আমার জন্মদিন। মা গিয়েছিলেন কলেজে আমার সেশন ফি কিছুটা কমানোর অনুরোধ নিয়ে, কারণ তখন আমরা আর্থিক সংকটে ছিলাম। আমার মা একজন হৃদরোগী। আমার চোখের সামনেই দুজন শিক্ষক মাকে নির্দয়ভাবে অপমান করলেন। সেদিন মা অনেক কেঁদেছিলেন।

মা হঠাৎ বলেছিলেন, “আমার খুব ইচ্ছা, আমার ছেলেকে বিদেশে পড়তে পাঠাবো।”

উত্তরে মাকে বলা হয়েছিল, “আপনার ছেলের কি সেই যোগ্যতা আছে? ইংরেজিতে তো টেনেটুনে পাস করে।”

আরও অনেক কথা বলা হয়েছিল আমার সম্পর্কে, যার ৮০ ভাগই ছিল মিথ্যা অপবাদ। সেদিন কাঁদতে কাঁদতে মা কলেজ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন।

নিজের কাছে সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আগামী দুই জন্মদিনের আগেই আমি যেভাবেই হোক, নিজের সর্বস্ব দিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করার যোগ্যতা অর্জন করব। যে করিডর দিয়ে আমার মা সেদিন চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বেরিয়েছিলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে সেই করিডর দিয়েই আমি মাকে মিষ্টি নিয়ে হাঁটাবো—আমার সাফল্যের মিষ্টি।

আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমি অস্ট্রেলিয়াতে স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। সারা বিশ্বে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পেয়েছি। হয়েছি IDEATHON-2025 এর চ্যাম্পিয়ন। IELTS-এ পেয়েছি ৭ এবং PTE-তে পেয়েছি ৭০। অথচ আমি একসময় রিডিং এ ৩.৫ থেকে ৪.০ পেতাম। আমি হাল ছাড়িনি। মনে প্রচন্ড জেদ ছিলো। ধন্যবাদ IELTS Bangladesh, Rimon IELTS, Banglay IELTS.

হ্যাঁ, আজ আমি পেরেছি আমার মায়ের অপমানের প্রতিশোধ নিতে। যারা মাকে সেদিন বলেছিল, “আপনার ছেলে একটা অপদার্থ,” “ছেলেকে কলেজে না দিয়ে সার্কাসের জোকার বানাতেন,” “নাহলে ছোটবেলায় নুন খাইয়ে মেরে ফেলতেন,”—আজ তারাই মাকে বলছে, “আপনি একজন রত্নগর্ভা।”

হ্যাঁ, আজ আমি জিতেছি। জিতে গেছে আমার মা।

ইনশাআল্লাহ এই মাসেই চলে যাচ্ছি অস্ট্রেলিয়াতে। দেখা হবে অন্য কোন বিজয়ে।

কপি

Back to top button