
সত্যের জয় চিরন্তন — আদালতের আদেশনামা
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ মুন্সি হারুন বেপারীর স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া স্ট্যাম্প তৈরি করা হয়। সেই জাল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কুচক্রী দখলবাজ, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী মানিক মাঝি ও হিরা মাঝি জোরপূর্বক আরিফ ফিলিং স্টেশন দখল করে শেয়ার দাবি করে ভোগদখলে নেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টর পরে মূল মালিক হারুন অর রশিদ বেপারী থানা, এসিল্যান্ড ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনের মালিকানা ফিরে পান। কিন্তু এরপরও হিরা মাঝি ও মানিক মাঝি বিএনপির বিভিন্ন নেতার দ্বারস্থ হয়ে হয়রানীর চেস্টা করেছিল । একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। প্রতিবারই আদালত সব শুনানি শেষে হারুন বেপারীর পক্ষেই রায় দেন।
তবুও আদালতের রায় অমান্য করে তারা পুনরায় ফিলিং স্টেশন দখলের চেষ্টা চালায়। তিন মাস আগে গৌরনদী থানার প্রাক্তন ওসি মো. ইউনুস মিয়াকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে মিথ্যা নোটিশ দেখিয়ে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তখন আলোচনায় উঠে আসে—আদালত বড় নাকি ওসি বড়? পরে ওসি ইউনুস মিয়াকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।
গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আবারও একইভাবে মিথ্যা নোটিশ দেখিয়ে মানিক মাঝি ফিলিং স্টেশনে বাঁশের বেড়া দেয়। তার সঙ্গে ছিল কিছু ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ধারী এবং বিএনপি নাম ভাঙানো মাদক সহযোগীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থানার এসআই সোহেল সন্ত্রাসীদের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় ভুক্তভোগী হারুন বেপারীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও ওসি মামলা নেননি। ওসি তরীকুল ইসলাম শুধু এসিল্যান্ডকে জানানোর পরামর্শ দেন। এভাবেই ২৪ ঘণ্টা কাটে।

পরদিন, বরিশাল জজকোর্টের পিপি আবুল কালাম, এপিপি, বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মহসিন মন্টু, এডভোকেট শাহনুর খানমসহ একাধিক আইনজীবী গৌরনদী সহকারী জজ আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের সহকারী জজ আইরিন আক্তার স্বাক্ষরিত আদেশে ফিলিং স্টেশন পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন।
ফিলিং স্টেশনের পরিচালক পপি জানান—
“আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আদালত থেকে সঠিক ও ন্যায়বিচার পেয়েছি। গতকাল যেসব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বাঁশের বেড়া দিয়ে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে লাখ লাখ টাকার লেনদেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। থানা মামলা না নিলে প্রয়োজনে আদালতে মামলা করব।”





