
বাবুগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার
বরিশালের বাবুগঞ্জে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সূর্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ রায়হান কাওছার। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের একটি সমন্বিত প্রতিনিধি দল নিয়ে উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রহিমগঞ্জ গ্রামে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি জাদুঘর ও গ্রন্থাগারের সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে তার সাথে বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আহসান হাবিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ ওবায়দুল্লাহ, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম, বাবুগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল আলম, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান হিমু খান, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন সুজন কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রহিমগঞ্জ গ্রামের সূর্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতি রক্ষার্থে বিগত ২০০৮ সালে সেখানে একটি স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর দেখভালের দায়িত্বে ছিল বরিশাল জেলা পরিষদ। নির্মাণের পরে এর কার্যক্রম শুরু হলে জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ ১৭ বছরেও এটি পূর্নাঙ্গ জাদুঘর কিংবা লাইব্রেরির রূপ পায়নি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে এর দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকারের মৃত্যু এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দের অভাবে এর কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। কেয়ারটেকার হিসেবে নতুন কাউকে নিয়োগ না দেওয়া এবং অর্থ বরাদ্দ না থাকায় জাদুঘরের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এরপরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জাদুঘরটি কার্যত একটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়।
কিছুদিন আগে বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার পরিদর্শনে গিয়ে এমন শোচনীয় অবস্থা প্রত্যক্ষ করে ক্ষুব্ধ হন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ। ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঢাকায় ফিরেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক-ই-আজমের সাথে সাক্ষাৎ করে এটি সংস্কার এবং জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এদিকে জাদুঘরের কার্যক্রম সচল করার জন্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ একটি প্রতিবেদন পাঠান।
সর্বশেষ বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতি জাদুঘরের মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রমের আপডেট জানতে গত ১৫ অক্টোবর আবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার সাথে দেখা করেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এসময় তার সামনেই উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারকে ফোন করে আগামী ১ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার কাজ শেষ করে গ্রন্থাগারসহ স্মৃতি জাদুঘরটি চালুর নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দেন। ওই নির্দেশনা পাওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছার বিভাগ এবং জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে জাদুঘর পরিদর্শনে যান। এসময় তিনি আগামী ১ মাসের মধ্যে কেয়ারটেকার নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সকল মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে গ্রন্থাগারসহ জাদুঘরের কার্যক্রম চালু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন। #





