
গৌরনদীর কাসেমাবাদে কালীপূজায় সম্প্রীতির জয়গান
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালেরধারা বরিশাল:
“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদের হরিসেনা গ্রামে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আনন্দঘন ও ঐতিহ্যবাহী কালীপূজা। সারাদিনব্যাপী ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত এ পূজা উপলক্ষে গ্রামজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, আলো-আলোকসজ্জায় মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। উৎসবটি সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে আন্তরিক সহযোগিতা করেন বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সংগ্রামী সদস্য সচিব জনাব মিজানুর রহমান খান মুকুল। তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেন, ভক্তবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে মিজানুর রহমান খান মুকুল বলেন,“মানুষ মানুষের জন্য, ধর্ম মানুষের হৃদয়ে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই মন্ত্রে বিশ্বাস রাখলেই সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপন সম্ভব। গৌরনদীর হরিসেনা গ্রাম আজ সেই উদাহরণ।”তিনি আরও বলেন,“আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য, বিভেদের জন্য নয়। আজকের এই কালীপূজা আমাদের শেখায় সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধনকে দৃঢ় করতে।”এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও শতশত নারী-পুরুষ ভক্তবৃন্দ। এলাকাবাসী জানান, এবারের কালীপূজা ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজন—যেখানে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই মেতে উঠেছিল আনন্দে ও সম্প্রীতির বন্ধনে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গৌরনদী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সফিকুর ইসলাম স্বপন শরীফ,গৌরনদী উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব হান্নান শরীফ, পৌর বিনএনপি সদস্য সচিব ফরিদ মিয়া, সরকারী গৌরনদী কলেজ সাবেক ভিপি জাকির সরদার।সহ অন্যান্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কালীপূজাকে ঘিরে এলাকার যুব সমাজ, নারীরা ও শিশু-কিশোররা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। সন্ধ্যার পর শুরু হয় আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশন করেন ভক্তিমূলক সংগীত ও নৃত্য।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই একত্রে প্রার্থনা করেন দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য।
হরিসেনা গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, “জনাব মিজানুর রহমান খান মুকুল সাহেবের উপস্থিতি আমাদের উৎসবকে আরও উজ্জ্বল করেছে। তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ও সম্প্রীতির বার্তা আজকের আয়োজনকে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করেছে।”উৎসব শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সকল অতিথি, ভক্তবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং এলাকার প্রতিটি আন্তরিক মানুষকে ধন্যবাদ জানানো হয়। “মানুষের সাথে মানুষের বন্ধন, ধর্মের সাথে ধর্মের সহাবস্থান—এই হোক কাসেমাবাদ হরিসেনার ভবিষ্যৎ চেতনা। জয় হোক সম্প্রীতির, জয় হোক মানবতার।”




