
ফিলিং স্টেশনের আসল সত্য
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের মো. হারুন অর রশিদ বেপারী তার পৈত্রিক জমিতে ২০১৫ সালে একটি ফিলিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেন। পরিত্যক্ত ডোবা ভরাট ও জমি প্রস্তুত করতে তিনি প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করেন। কিন্তু আর্থিক সংকটে পড়লে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোলেমান হাওলাদারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নেন মাসিক ১ লাখ টাকা সুদ দেওয়ার শর্তে। কয়েক মাস সুদ দেওয়ার পর এক মাস বকেয়া হলে সোলেমান হাওলাদার থানায় অভিযোগ করেন ২৫ লাখ টাকার পাওনা দেখিয়ে। পরে হারুন বেপারী আসল ও সুদ মিলিয়ে ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করেন স্ত্রী ও মেয়ের স্বর্ণ বিক্রি করে।
এরপর থেকে স্টেশনটির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মুন্সির। তিনি প্রথমে শেয়ার নেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে হারুন বেপারীর বাড়িতে গিয়ে একটি ডায়েরিতে ৩৪% শেয়ার হারুন বেপারীর, ৩৩% তার মেয়ে-জামাইয়ের এবং ৩৩% ফরহাদ মুন্সির নামে লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হারুন বেপারী ও তার পরিবারকে চাপ দিয়ে একতরফা নন-রেজিস্ট্রিকৃত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন এবং প্রকৃত মালিককে মূল কাগজ দেননি।
ফরহাদ মুন্সি কোনো রেজিস্ট্রি বা ব্যবসায়িক কাগজপত্র না রেখে শুধু কম্পিউটারে খরচ লিখে পাম্পের কাজ চালান। এরপর ধীরে ধীরে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী হিরা মাঝি ও মানিক মাঝিকে জাল স্ট্যাম্প ও ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে শেয়ার অংশ দেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। হারুন বেপারী ও তার মেয়ের জামাইকে শেয়ার থেকে বাদ দিয়ে ক্ষমতার প্রভাবে একের পর এক প্রতারণা করা হয়।
এই অনিয়মের প্রতিবাদ করায় হারুন বেপারী হুমকি-ধমকির শিকার হন এবং পরে অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে ফরহাদ মুন্সি নিজেকে প্রোপ্রাইটর দেখিয়ে তেল উত্তোলন ও বিক্রি শুরু করেন। হারুন বেপারীর কন্যা পপি পাম্প বন্ধ রাখতে প্রশাসন ও ডিপো কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানালেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল তাদের দমন করে।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ফরহাদ মুন্সি আত্মগোপনে চলে গেলে হিরা মাঝি ও মানিক মাঝির দল আবারও পাম্প দখলের চেষ্টা চালায়। তবে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার একাধিকবার শুনানি নিয়ে প্রমাণ পান যে সব কাগজপত্র ও লাইসেন্স হারুন অর রশিদ বেপারীর নামে বৈধ। ইউএনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন যে হিরা–মানিক গংয়ের কোনো মালিকানা বা জমির অধিকার নেই।
তবুও তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে দফায় দফায় মব সৃষ্টি করে পাম্প দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। আদালতে করা প্রায় সবগুলো মামলাতেই রায় এসেছে হারুন বেপারীর পক্ষে।
অন্যদিকে হিরা মাঝি যে জমি কিনেছেন, সেটি একেবারেই আলাদা খতিয়ান ও দাগের। সেই জমির সঙ্গে মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশনের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ অসাধু প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি তুলে বারবার পাম্প দখলের চেষ্টা চলছে।
👉 সত্য হলো—মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশন এককভাবে হারুন অর রশিদ বেপারীর মালিকানাধীন, অন্য কারও নয়।
সকল প্রমানাদি কাগজপত্র রয়েছে




