অপরাধ ও দুর্ণীতি

নারীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ ববি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

মো: জুয়েল সরদার বরিশাল স্টাফ রিপোর্টারঃ  রসয়ান বিভাগের তুর্য্য বাড়ৈ নামক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি গোপনে ধারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বিকৃতি এবং অপব্যবহারের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাদের সহপাঠীরা।

‎‎‎বুধবার (৪ মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস বরাবর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রীরা পৃথক পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।
‎‎অভিযোগপত্র দুটিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে (অভিযোগ অনুযায়ী ২০২৪ সাল থেকে) সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি তার ব্যক্তিগত ডিভাইসে সংরক্ষণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তার ডিভাইস জব্দ করে সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সম্পাদিত ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
‎‎ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তারা দাবি করেন, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়, বরং এটি একটি সংগঠিত চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধও হতে পারে।
‎‎অভিযোগে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর স্নাতকোত্তর শ্রেণির ভর্তি বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং তার স্নাতক শ্রেণির সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সম্ভাব্য জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রী বলেন, আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের। পুজার সময় আমাদের একসাথে অনেক কাজ করতে হয়৷ এজন্য অনেক সময় থাকতেও হয় ৷ আমাদের অনেক সিঙ্গেল এবং গ্রুপ ফটো তার ফোনে আছে। এক্ষেত্রে সে আমাদের আপত্তিকর ছবি তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার যথাযথ বিচার দাবি করছি।
‎রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মিরাজ বলেন, গতকাল রাতে ইফতারের পরে নিজের একজন মেয়ে বন্ধুর অনুমতি ছাড়াই আপত্তি কিছু ছবি তুলেছে। মেয়েটি দেখে ওর ফোন চেক করে। এসময় ওর ফোনে আরও শতশত মেয়ের আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওর নিজের ব্যাচের সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে চলে আসে এবং তারা ওর ফোন চেক করে আপত্তিকর ছবি দেখে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে যায়। পরে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর টিম,বিভাগের শিক্ষকদের খবর দেয়৷ তাদের উপস্থিতিতে রাতেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা মাকে জানায়। সকালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। এ সময় পুরো বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে প্রক্টর অফিসের সামনে মানববন্ধন করে।
‎‎এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড.মোঃমাসুদ পারভেজ বলেন, অভিযুক্তের ডিভাইস চেক করা হচ্ছে, এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় নি। আমরা ডিভাইসের ছবি গুলো চেক করছি।
আরও দেখুন
ইলেকট্রনিক গ্যাজেট (মোবাইল, ল্যাপটপ)
শিক্ষা সংবাদ
চাকরি পোর্টাল সাবস্ক্রিপশন
‎‎ববি প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী আমাদের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল আছে। তাদেরকে বলবো তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে। পাশাপাশি এ ছেলে যে ছবি তুলেছে সেগুলো বাইরে কোথাও দিয়েছে কিনা, অন্যকোনো চ্যানেলের সাথে যুক্ত কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। আমরা এখন পুলিশে মামলা দিবো এবং আইন অনুযায়ী আগাবো।

মন্তব্য করুন

Back to top button