জাতীয়

বেগম খালেদা জিয়া

জন্ম ১৯৪৫ সালে।
১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন এবং ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করেন।

১৯৬৫ সাল বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় স্বামী জিয়াউর রহমানকে যেতে হয়েছিল ভারত পাকিস্থান যুদ্ধে।যেখানে মৃত্যু সবসময় হাতছানি দিত।একই বছর জন্ম নেয় বড় সন্তান।১৯৬৯ সালে জন্ম নেন ছোট সন্তান।

৭১ সালে বেগম জিয়ার বয়স তখন মাত্র ২৬, বড় সন্তানের বয়স ০৬, ছোট সন্তানের বয়স ০২। আবারো যুদ্ধ। এবারের যুদ্ধে তার স্বামী ৬৫ সালের মত একজন পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা নন, এবারের যুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন বিদ্রোহী সামরিক কর্মকর্তা। একদমই ভিন্ন।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি হন দুই সন্তান সহ। ০৭ মাস বন্দি থাকেন।

৭৫ সালে বয়স ৩০। নিজ দেশে একটা সামরিক ক্যুর মুখোমুখি হন।এবারও মৃত্যুর হাতছানি।মৃত্যু থেকে বেঁচে ফিরলেন।কিন্তু স্বামীকে ছেড়ে দিত হয় দেশের জন্য। ৮১ তে স্বামীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মোটামুটি সামরিক বাহিনীতে ২১ (সম্ভবত) টার মত ক্যু হয়। মানে ২১ বার সরাসরি মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া।

চূড়ান্তভাবে ৩৬ বছর বয়সে স্বামীকে হারান। বড় ছেলে ১৬ এবং ছোট ছেলের বয়স তখন ১২।

৮২ সালে বয়স তখন ৩৭। একটা সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে তাকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় আনা হল। টানা ১০ বছর সংগ্রাম করলেন আপোষহীনভাবে। কোন প্রলোভন তাকে দমাতে পারে নাই। এই ১০ বছরেও হত্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন, কারাবন্দী হয়েছিলেন।

৯১ সাল। ৪৬ বছর বয়সে হন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ৫ বছরে বিরোধী দলের অপরাজনীতিকে মোকাবেলা করে দেশকে গড়েছেন।

এরপর আসল ১/১১। এবার শয়তানদের টার্গেট দুই সন্তানকে জিম্মি করে তাকে পঙ্গু করে দেয়া। কিন্তু তিনি যতটা না দুই সন্তানের মা, তার চেয়েও বড় তিনি দেশটাকে বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। আপন সন্তানকে কুরবানি দিয়ে দেশ নিয়ে পড়ে ছিলেন। তাই ১/১১ সফল হয় নাই। দেশটাও বেঁচে গিয়েছিল।

তারপর দেশ হয়ত কিছুটা ১/১১ এর অসৎ পরিকল্পনা থেকে মুক্তি পেল কিন্তু দেশ পড়ে গেল প্ল্যান ‘বি’ এর ক্ষপ্পরে। ১/১১ এর পরিকল্পনায় তিনি পরোক্ষভাবে সন্তান হারা হয়েছিলেন। আর ৭০ বছর বয়সে এসে টকবগে ছোট সন্তানকে চূড়ান্তভাবে হারান। যখন তিনি সরকারের টার্গেট কিলিং মিশনে ছিলেন। নিজের কার্যালয়ে তাকে বন্দি করা হয়। তিনি এই বন্দি অবস্থাতেই অঝোর ধারায় কেঁদে সন্তানের লাশ গ্রহণ করে চিরতরে বিদায় জানান। কিন্তু আপোষ করেন নাই।

৭৩ বছর বয়সে তাকে জেলে বন্দি করা হয়। একটা পরিত্যাক্ত জেলে। যেখানে তিনিই একমাত্র বন্দি। সেখানে প্লাস্টার ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ত। চিকিৎসা দেয়া হত না। উপরে যে রুমে তাকে রাখা হত তার নিচেই তার জন্য আদালত বসানো হত একটা মানসিক চাপ দেয়ার জন্য। এভাবে ৬ বছর বন্দি থাকার পর ৭৯ বছর বয়সে আল্লাহ্ তাকে সেখান থেকে মুক্ত আকাশে আসার সুযোগ দেন।

এই ৬ বছরে চেষ্টা করা হয় তাকে চূড়ান্তভাবে শেষ করে দেয়ার জন্য।

তার এই বর্তমান ৮০ বছর বয়সে আমার মনে হয় সর্বোচ্চ জীবনের প্রথম ২০ বছর একটা হাসিখুশি জীবন যাপন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। আর বাকি ৬০ বছর গেছে চরম দূর্দিনের মধ্য দিয়ে।

“মহান সৃষ্টিকর্তা যেন বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থ সুন্দর রাখেন। সম্মান বাড়িয়ে দেন”।

❤️

মন্তব্য করুন

Back to top button